Saturday, 18 April 2020

আল কোরআন

সুরা আল জাসিয়াহ,আয়াত-২৩

أَفَرَءَيْتَ مَنِ ٱتَّخَذَ إِلَٰهَهُۥ هَوَهُ وَأَضَلَّهُ ٱللَّهُ عَلَىٰ عِلْمٍ وَخَتَمَ عَلَىٰ سَمْعِهِۦ وَقَلْبِهِۦ وَجَعَلَ عَلَىٰ بَصَرِهِۦ غِشَٰوَةً فَمَن يَهْدِيهِ مِنۢ بَعْدِ ٱللَّهِ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ
অর্থঃ আপনি কি তার প্রতি লক্ষ্য করেছেন, যে তার খেয়াল-খুশীকে স্বীয় উপাস্য স্থির করেছে? আল্লাহ জেনে শুনে তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তার কান ও অন্তরে মহর এঁটে দিয়েছেন এবং তার চোখের উপর রেখেছেন পর্দা। অতএব, আল্লাহর পর কে তাকে পথ প্রদর্শন করবে? তোমরা কি চিন্তাভাবনা কর না?
আয়াতের শেষে আল্লাহ বলেছেন তোমরা কি চিন্তাভাবনা কর না?
আসলে আল্লাহর কোরআনের  প্রতিটা আয়াতইতো (নিদর্শন)  চিন্তাভাবনাযোগ্য,কিন্তু আমাদের এতই অধঃপতন হয়েছে যে আমরা আল্লাহর কোরআন   নিয়ে চিন্তাভাবনা ছেড়ে দিয়ে দুনিয়া নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছি,তাইতো আমাদের উপর যতসব আজাব গজব আপতিত হচ্ছে।
অত্র আয়াতে আল্লাহ বলেন,আপনি কি তার প্রতি খেয়াল করেছেন যে তার খেয়াল খুশিকে উপাস্য/প্রভু রুপে গ্রহণ করেছে?
কাউকে যদি বলি ভাই আপনিতো আপনার খেয়াল খুশিকে প্রভু বানিয়েছেন,সে হেয় করে বলবে দুর ভাই কে বলছে আমিতো আল্লাহকে প্রভু হিসেবে মানি,যাকে প্রভু হিসেবে মানি প্রতিটা কাজেই কিন্তু তাঁর আদেশ -নিষেধ মেনে চলতে হয় কিন্তু আমরাতো নামে আল্লাহকে প্রভু হিসেবে মেনে নিয়েছি আর প্রতিটা কাজ আমাদের খেয়াল খুশি মত/বাপদাদাদের নিয়ম মত/পীর বুজুর্গের নিয়ম মত/নেতাদের নিয়ম মত মানতেচি,কোন ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছাকে বানিয়েছি প্রভু,কোন ক্ষেত্রে বাপদাদাকে বানিয়েছি উপাস্য,কোন ক্ষেত্রে  নেতাদেরকে বানিয়েছি প্রভু।
একটু ভাবুন কিভাবে আমরা এদেরকে প্রভু বানিয়েছি,
খেয়াল খুশি-একজন মুমিন বান্দাহর প্রতিটা কাজ হবে আল্লাহর বলা ও রাসুলের দেখানো পথ অনুযায়ী কিন্তু এর বাহিরে আপনি যদি কোন কাজ নিজের ইচ্ছা মতো করেন,যেমন মুমিন ব্যক্তি সকালে চোখে ঘুম থাকুক আর না থাকুক আল্লাহর আদেশ পালনার্থে নামাজের জন্য উঠে যাবে,কিন্তু যে তার খেয়াল খুশিকে প্রভু বানিয়েছে সে ঘুম চোখে থাকুক আর না থাকুক সে শুয়ে থাকবে,এরকম প্রতিটা কাজে সে নিজের খেয়াল খুশিকে প্রভু হিসেবে গ্রহন করে,
বাপ দাদার নিয়ম-অনেক ক্ষেত্রে দেখবেন মানুষ যদি কোন ভুল কাজের মধ্যে থাকে আর কেউ যদি তাকে বলে ভাই আপনার এ কাজটা ভুল, ইসলাম এইভাবে বলেনাই অন্যভাবে বলছে তখন তারা বলে আমাদের বাপদাদারা এভাবে করে গেছে ওরা কি ভুল করছে নাকি?এভাবেই তারা আল্লাহর বিধানকে উপেক্ষা করে বাপ দাদাকে প্রভুর জায়গায় স্থান দেয়।
পীর বুজুর্গের নিয়ম-অনেক মুরিদ/ভক্ত আছে যারা তাদের পীর বা বুজুর্গ যেটা বলছে সেটার উপরই অটল থাকে,যদিও সেটা ভুল,কিছুতেই তাকে সে ভুল কাজ থেকে ফিরানো যায়না,বললে আপনাকে উলটো ধমক দিয়ে বলবে উনি এত বড় পীর বুজুর্গ উনি কি ভুল আমল করেছেন?
এভাবে পীর বুজুর্গকে প্রভুর জায়গায় বসিয়ে দেয়।
নেতার নিয়ম-এবার আসুন নেতার নিয়মে,সকলেই মনে করে যে তার নেতা যেভাবে আদেশ করে, যে কাজ করে,যেভাবে চলে সেটাই সঠিক, তাতে কোন ভুল নেই,কিন্তু তার জানা নেই যে,সবার নেতা হচ্ছে মুহাম্মদ(সাঃ),যদি কোন মানুষের মধ্যে রাসুল (সাঃ) এর আদর্শ ফুটে উঠে তাহলে তাকে অনুসরণ করা যাবে,কারন মানুষ শুনার থেকে দেখে কিছু অনুসরণ করতে পারদর্শী,
কিন্তু  কিছু মানুষ একবারো ভাবেনা তার নেতার মধ্যে রাসুল (সাঃ) চরিত্র বিদ্যমান আছে কিনা,একদম অন্ধভাবে নেতাকে অনুসরণ করে,কেউ তার নেতা সম্পর্কে কিছু বললে তাকে মারতে উঠে,এভাবে সে তার প্রভুর আসনে নেতাকে বসিয়ে দেয়।।
এর কারনে কি হয়,আল্লাহ এধরনের মানুষকে নিজ হাতে পথভ্রষ্ট করে দেন,
এবার বলুন আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন সে কি করে সঠিক পথের সন্ধান পাবে? ... 
আল্লাহ আমাদের সবাইকে দুনিয়াবী সকল প্রভুকে বাদ দিয়ে  এক আল্লাহর গোলামী করার তাওফিক দিন,আমিন


No comments:

Post a Comment